দুদক চেয়ারম্যান বললেন

ঢামেক হাসপাতালে কে ডাক্তার কে দালাল বোঝা মুশকিল

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ এএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডিউটি চিকিৎসকদের কারও ড্রেসআপ না থাকায় তারা চিকিৎসক, নার্স নাকি দালাল; তা বোঝা মুশকিল বলে মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে পরির্দশনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সময়ে কয়েকজন চিকিৎসকের কক্ষে গিয়ে তাদের উপস্থিতি না পেয়ে তিনি শোকজের নির্দেশ দেন।

দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান বলেন, রোগীদের সব সময়ের অভিযোগ, তারা ঠিকমতো চিকিৎসা পান না, চিকিৎসক থাকেন না। এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। আজকে আমরা (দুদক) ঢাকা মেডিকেলে এসেছি। এরপর অন্যান্য হাসপাতালেও যাব।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলে এসে জরুরি বিভাগের কয়েকটি রুমে গিয়ে চিকিৎসকদের পাইনি। জরুরি বিভাগের ডিউটি ডাক্তারদের কারও ড্রেসআপ না থাকায় তারা ডাক্তার, নার্স, নাকি দালাল তা বোঝা মুশকিল। এ জন্য ডাক্তারদের আইডেন্টিফাই করতে পারছি না। তারা সেবা দিচ্ছেন কি-না সেটিও জানি না। এখন বাজে বেলা সোয়া বারোটা, ডাক্তারদের কেউ বলছেন বাইরে গেছেন, কেউ বলছেন চা খেতে গেছেন। এ কারণে আসলে রোগীরা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন না।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, হাসপাতাল পরিচালককে বলে গেলাম, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের শোকজ নোটিস দিতে। এ বিষয়ে আমরাও আইনগত ব্যবস্থা নেব। সরকারি হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য ও চিকিৎসকদেরও সরাসরি দালালি ও রোগী ভাগানোর সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তাদের বিরুদ্ধেও অ্যাকশনে যাব। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর একটি ব্যবসা। এটি বন্ধ করতে সরকার ব্যবস্থা নেবে। কারণ এটি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ. কে. এম. ফরহাদ হোসেন জানান, হাসপাতালটিতে নতুন এসেছি। আসার পরই কিছু পরিবর্তন করেছি। দুদক চেয়ারম্যান যে বিষয়গুলোর কথা বলেছেন সেগুলো সমাধানেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে চিকিৎসকসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত