বাড়ির পাশে ব্রিজ বানাতে বুয়েটের নকশা বাদ দিলেন চেয়ারম্যান

আপডেট : ০৩ মে ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম

সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর-রাজৈর ব্রিজ বুয়েটের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ না করে বরাইদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হাই কর্তৃক প্রস্তাবিত স্থানে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বুয়েটের নকশা অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ না হলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলকাবাসী। গোপালপুরসহ ২০ গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ এর স্বপক্ষে স্বাক্ষর দিয়ে লিখিত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধলেশ্বরী নদীর দুই পাড় ঘিরে গড়ে ওঠেছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের গোপালপুর বাজার সংলগ্ন খেয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। এ ঘাট দিয়ে সাটুরিয়া-দৌলতপুর উপজেলাসহ টাঙ্গাইল জেলার একাধিক গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে।

গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, গোপালপুর বাজার বরাবর ধলেশ্বরী নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ চূড়ান্তভাবে প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রথমে বুয়েটের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে। তারা বাজার সংলগ্ন মাইনকার খেয়া ঘাটে ব্রিজটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী প্রাথমিক এলাইনমেন্ট নকশা প্রণয়ন করে সব কাজ শেষে টেন্ডারের ঘোষণা দেন কর্তৃপক্ষ। 

তিনি আরও বলেন, বরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হাই, সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কর্মকর্তাকে দিয়ে জনস্বার্থ উপেক্ষা করে ব্রিজটি সরিয়ে তার বাড়ির কাছে ব্রিজ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেন। চেয়ারম্যান বাড়ির নিকট ব্রিজ নির্মাণ হলে সাটুরিয়া উপজেলা ও দৌলতপুর উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ বিঘ্নিত হবে। দৌলতপুর ও ঘিওর উপজেলার দূরবর্তী জনগণসহ দড়গ্রাম ও সাটুরিয়া ইউনিয়ন এবং রাজৈর, ধূলট, কাকরাইদ, গালা, ঘরিয়ালা গ্রামের মানুষদের যাতায়াত বিঘ্নিত হবে।

গোপালপুর গ্রামের ধলু বলেন, গোপালপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজ নির্মাণ না হলে, বৃহৎ পশ্চিম অঞ্চল হতে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অত্র এলাকার দড়গ্রাম কলেজ, দড়গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, দড়গ্রাম সিনিয়র মাদ্রাসা, দড়গ্রাম হাফিজিয়া মাদ্রাসা, গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ সাধারণ জনগণের দড়গ্রাম বাজার ও গোপালপুর বাজারে যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে-ব্রিজটি সহায়ক হবে না।

ধুলট গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, ব্রিজটি উত্তর দিকে পরিবর্তন হলে শতাধিক আধা-পাকা ঘর/বসতবাড়ি, ৩টি কবরস্থান, ১টি মসজিদ ভাঙা পড়বে। ফলে সরু রাস্তার সাথে ব্রিজের কানেক্টিং রাস্তা ও প্রশস্ত এপ্রোচ নির্মাণের জন্য প্রচুর বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙার ক্ষতিপূরণ প্রদানের কারণে সরকারকে অতিরিক্ত বহু কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

রাজৈর গ্রামের জিয়াউর রহমান বলেন, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারে জনগণের সর্বোচ্চ সুফল প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ব্রিজ নির্মাণের জন্য বুয়েট কর্তৃক নির্ধারিত ১ম প্রস্তাবিত মাইনকার খেয়া ঘাট বরাবর করা প্রয়োজন।

গোপালপুরের মো. মিহির আলী বলেন, ৫ বছর ধরে শুনে আসছি, ব্রিজ নির্মাণ হবে গোপালপুর-রাজৈর ঘাটে। এখন শুনি চেয়ারম্যানের বাড়ির নিকট হবে। আমরা কোনো অবস্থাতেই ব্রিজ গোপালপুর বাজারের উত্তরে নির্মাণ করতে দেব না।

চর রাজৈর লাল চান মিয়া বলেন, ব্রিজ গোপালপুর বাজারের নিকটে না হলে, দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলব। প্রয়োজনে ব্রিজের কোনো নির্মাণ সামগ্রী অন্য স্থানে নিয়ে যেতে দিব না। অতি শীগ্রই ভুল সিদ্বান্ত থেকে না সরে আসলে আমারা ব্রিজ সঠিক স্থানে নির্মাণের জন্য মানববন্ধনসহ বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করব।


 
রৌহা গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, চেয়ারম্যান বাড়ির নিকট থেকে ব্রিজ নির্মাণ হলে, সাটুরিয়ার সাথে-দৌলতপুর ও টাঙ্গাইল জেলার মানুষের কোনো উপকার আসবে না। ব্রিজটি বাজার সংলগ্ন নির্মিত হলে, এ এলাকার কৃষকের উৎপাদিত ফসল হাট বাজারে নিতে খরচ কম হবে। উত্তরে গেলে কৃষকের অতিরিক্ত খচর হবে।

এ ব্যাপারে বরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হাই বলেন, বরাইদ ইউনিয়নের বৃহৎ স্বার্থেই ব্রিজটি যথা স্থানে নির্মিত হচ্ছে।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল করিম বলেন, প্রথমে বুয়েট কর্তৃক গোপালপুর মাইনকার খেয়া ঘাটে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য নকশা করা হয়। পরে প্রকল্প পরিচালকের অফিস থেকে গোপালপুর মজিদের বাড়ির নিকট থেকে ডিজাইন করা হয়। এরপরে ৩য় বারের মতো চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হাই এর বাড়ির নিকট থেকে ডিজাইন করা হয়। সর্বশেষ ডিজাইন অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন ছিল। কিন্তু এখানে ব্রিজ নির্মাণ হলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হবে বলে দাবী করে এখন আবার ব্রিজটি প্রথম নকশা অনুযায়ী গোপালপুর বাজারের নিকট করার জন্য প্রকল্প পরিচালক, জেলা প্রশাসক বরারব চিঠি দিয়েছেন। আমাকেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। এখন ব্রিজ কোথায় নির্মাণ হবে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত