মাদারীপুরে দুই দিনে মিলল ৫ সাপ

রাসেলস ভাইপারে আক্রান্তদের জন্য মেডিকেল টিম

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম

সারা দেশে যখন রাসেলস ভাইপার নিয়ে আলোচনা চলছে তখন মাদারীপুরে দুই দিনে পাঁচটি সাপ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয়রা। এর মধ্যে শহরের গোরন চত্বরে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে একটি ও শিবচর উপজেলার পৃথক স্থানে চারটি সাপ পিটিয়ে মারা হয়। ফলে রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে মাদারীপুরবাসী। যদিও হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম বা ভ্যাকসিন আছে বলে আশ্বস্ত করেছেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন।

জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে শিবচরের দত্তপাড়া ইউনিয়নের হাজী কাইমুদ্দিন শিকদারকান্দি এলাকার একটি ধানক্ষেতে রাসেলস ভাইপার পাওয়া যায়। পরে দুপুরে শিরুয়াইল ইউনিয়নের উৎরাইল গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মসজিদের সামনে একটি এবং সন্ধ্যার পর একই এলাকার জামাল শেখের বাড়িতে আরও একটি সাপ পাওয়া যায়।

এছাড়া রবিবার দুপুরে চরজানাজাত গ্রামের পাটের জমিতে একটি এবং গোরন চত্বরে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে অপর একটি সাপ পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। অপরদিকে কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় রাসেলস ভাইপার দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন বলেন, ‘আমাদের এখানে আগেও এ রকম সাপ অনেকেই দেখেছি। পাহাড়ি সাপ ভেবে বিষয়টি নিয়ে ভয় পাইনি। ধারণা করা হচ্ছে, পাশের আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে সাপ আসছে। সাপটি নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাপে কাটার ভ্যাকসিন হাসপাতালে পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয়।’

গোরন চত্বরে পাওয়া রাসেলস ভাইপার নিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নদের পাড়ে একটি রাসেলস ভাইপার দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সাপটিকে মেরে আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছে। সাপটির পেটের মধ্যে বাচ্চা ছিল। এখন এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ নদে গোসল করতে যায় না।’

আজাহার হোসেন নামের একজন বলেন, সাপটি দেখতে খুব ভয়ঙ্কর। সরকারিভাবে এ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা উচিত। হাসপাতালগুলোতে ভ্যাকসিন রাখা উচিত।

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ইকরাম হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলে বিষধর সাপের উপদ্রব বাড়ে। তবে এ বছর রাসেলস ভাইপারের বিচরণ জেলায় বেশি শোনা যাচ্ছে। নদী বা পুকুরে গোসল করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। বিষধর সাপে কাটলে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে আসতে হবে। অ্যান্টিভেনম নিলেই আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। আমাদের সদর হাসপাতালে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম শুধুমাত্র রাসেলস ভাইপারে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত