বাবা অ্যান্ড্রুর পদচিহ্নে এগোচ্ছে রকি

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:১৭ পিএম

ল্যাঙ্কাশায়ারের সবুজ মাঠে ক্রিকেট শিখেছেন। ডানহাতি ফাস্ট মিডিয়াম পেস এবং মিডল অর্ডারে ব্যাটিং—সেই সঙ্গে দুর্দান্ত হুক শট খেলার ক্ষমতা। পদবি ‘ফ্লিনটফ’, কিন্তু নামটা অ্যান্ড্রু নয়, রকি ফ্লিনটফ। বয়স মাত্র ১৬, তবে এরই মধ্যে ইংলিশ ক্রিকেটে নাম কুড়াচ্ছেন তিনি। 

রকি হলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের ছেলে। বাবার মতো তিনিও অলরাউন্ডার, আর তার খেলার ধরনে অনেকেই শুরুর দিকের অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফকে খুঁজে পান। ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে রকির ক্রিকেট শুরু যেন বাবার ক্যারিয়ারেরই ছায়া। 

ল্যাঙ্কাশায়ারের বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর এ বছরের এপ্রিলে দ্বিতীয় একাদশে অভিষেক হয় রকির। ১৬তম জন্মদিনের দুই দিন আগে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করে হয়ে যান ক্লাবটির ইতিহাসে দ্বিতীয় একাদশের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান। এই রেকর্ড আগে ছিল তার বাবার। 

এরপর জুনে ল্যাঙ্কাশায়ারের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করেন রকি। এক মাসের ব্যবধানে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট এবং আগস্টে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও অভিষেক হয়ে যায় তার। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ল্যাঙ্কাশায়ারের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লেখান রকি। 

শুধু ল্যাঙ্কাশায়ার নয়, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন রকি। শ্রীলঙ্কা যুব দলের বিপক্ষে তার প্রথম যুব ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ড যুব দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হন। ১৬ বছর ১০২ দিনে এই রেকর্ড গড়তে তিনি ছাড়িয়ে যান ইয়ান বেলকে, যার বয়স ছিল ১৬ বছর ৩১৩ দিন। 

রকির দক্ষতা দেখে খুব দ্রুতই তাকে ডাক পড়ে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলে। কাকতালীয়ভাবে, এই দলে কোচ হিসেবে ছিলেন তার বাবা অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। এই প্রথমবার বাবা-ছেলের একসঙ্গে ইংল্যান্ড দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার দৃশ্য দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। 

তবে বাবার অধীনে প্রথম ইনিংসে রকি খুব একটা ভালো করতে পারেননি। মাত্র ৩ বল খেলে আউট হন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তার কাছ থেকে বাবার আশা অনেক বেশি। 

ইংল্যান্ড দলে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে অ্যালেক স্টুয়ার্ট খেলেছেন তার বাবা মিকি স্টুয়ার্টের অধীনে। একইভাবে, মার্ক বুচারও খেলেছেন তার বাবা অ্যালান বুচারের অধীনে। 

রকি ফ্লিনটফের যাত্রা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে তার প্রতিভা ও বাবার ছায়া যেন তাকে নিয়ে যেতে পারে ইংলিশ ক্রিকেটের সেরা পর্যায়ে। বাবার মতোই তিনি হয়তো একদিন হয়ে উঠবেন ইংল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত