জীবাশ্ম জ্বালানি বাদ দিয়েই কপ৩০-এ চূড়ান্ত জলবায়ু চুক্তি

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩৪ পিএম

কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর সভাপতিত্বে একটি সমঝোতা মূলক জলবায়ু চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) ব্রাজিলের বেলেম শহরে স্বাক্ষর হওয়া এই চুক্তি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করবে। তবে এই চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল চালিকা শক্তি জীবাশ্ম জ্বালানি কমানো নিয়ে সরাসরি কোনো উল্লেখ নেই। 
 
মূলত শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আলোচনাগুলো অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। টানা ১২ ঘণ্টার আলোচনার পর ১৯৪টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল চুক্তিতে সম্মতি দেয়। ব্রাজিল আশা করছে, চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পদক্ষেপে সমন্বয় সম্ভব হবে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি না পাঠানো নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। 

জাতিসংঘের জলবায়ু সেক্রেটারিয়েটের নির্বাহী সেক্রেটারি সাইমন স্টিয়েল বলেছেন, 'বিশ্বে বিভাজন থাকা সত্ত্বেও দেশগুলো একমত হতে পেরেছে। আমরা এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি'।

আলোচনায় জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে গভীর মতভেদ প্রকাশ পেয়েছে। সৌদি আরব ও রাশিয়ার মতো উৎপাদনকারী দেশগুলো তেলের ব্যবহার কমানোর রূপরেখা তৈরিতে বাধা দেয়। চূড়ান্ত চুক্তিতে কেবল ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানি কমানোর আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, কিন্তু বনভূমি নিধন রোধ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেই, যা পরিবেশবাদী গোষ্ঠী ও আয়োজক দেশকে হতাশ করেছে।  

কিছু প্রতিবেশী দেশ যেমন কলম্বিয়া, পানামা, উরুগুয়ে চুক্তির প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও চুক্তিতে সমর্থন দিলেও কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কপ৩০-এর মূল লক্ষ্য ছিল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো এবং জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য জাতিসংঘের কাঠামো শক্তিশালী করা। চুক্তির ফলাফল দেখায়, বিশ্বব্যাপী সমন্বয় কিছুটা সম্ভব হলেও উচ্চাকাঙ্ক্ষী জলবায়ু পদক্ষেপ নেওয়ায় এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত