ফরিদপুরে রেলক্রসিংয়ে নেই গেট-গেটম্যান, ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ পিএম

ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো লেভেল ক্রসিং গেট, নেই গেটম্যান। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেনও এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এই কাফুরা রেলক্রসিংয়েই ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকাগামী একটি ট্রেন রেলগেট অতিক্রম করার সময় একটি মাইক্রোবাস হঠাৎ লাইনের ওপর উঠে পড়লে এ সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি প্রায় ৫০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় সেখানে কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকাই বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে। এরপর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে ঘুরে দেখা গেছে, কাফুরা রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেন আসার সময় সতর্কবার্তা বা ব্যারিয়ার না থাকায় হঠাৎ করেই যানবাহন লাইনে উঠে পড়ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির বলেন, প্রতিদিনই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেন কখন আসবে, কোনো ধারণা থাকে না। দ্রুত এখানে গেটম্যান নিয়োগ জরুরি।

অটোরিকশা চালক শরীফ বলেন, হঠাৎ ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় অল্পের জন্য বেঁচে যাই।

এলাকার চা দোকানদার মো. হোসেন জানান, ট্রেন এলে আমরা নিজেরাই রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করি। তবে সব সময় হয়ে ওঠে না।

স্থানীয় গ্রামবাসী শেখ হাসান বলেন, প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। ঝুঁকি থাকলেও যেন কারো কোনো নজর নেই, এটা খুবই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস জানান, গেটম্যান নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। এ ব্যাপারে এর চাইতে বেশি কিছু বলেননি তিনি।

এ বিষয়ে রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান জানান, এ ব্যাপারে পাকশীতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো সমাধান মিলেনি।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোসা. হাসিনা খাতুন বলেন, এটি সম্ভবত অননুমোদিত রেলগেট হওয়ায় গেটম্যান নেই। তবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। আমরা এলাকাবাসী ও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত