১০ বছরেও শেষ হয়নি ১০ কিলোমিটার সড়ক

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে বিজয়নগর উপজেলার নূরপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় এক দশক আগে শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালে কাজ শুরু হওয়া সড়কটি ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। মাঝপথে বোয়ালিয়া খালের ওপর সেতুর কাজ দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় ভোগান্তি কাটছে না স্থানীয়দের।

জেলা ও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিরাইলকান্দি থেকে বিজয়নগরের পত্তন ইউনিয়নের সীমনা পর্যন্ত নূরপুর জিসি-কালীবাড়ি আরএন্ডএইচ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে সড়কের নির্মাণকাজ বিলম্বিত হয়। সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৬ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ডলি কনস্ট্র্রাকশন ও ইনফ্রাটেক যৌথভাবে ৩৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের কাজ শুরু করে। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রথমে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, দ্বিতীয় দফায় ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলেও প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। অর্থাৎ ১০ বছরেও ১০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরিভাবে শেষ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডলি কনস্ট্র্রাকশন কাজ ফেলে চলে যায়। পরে জেলা শহরের অন্য ঠিকাদাররা ডলি কনস্ট্রাকশনের পক্ষে সড়কের মাটি ভরাট, দুই পাশে নিরাপত্তা দেয়াল, ব্লক, কালভার্ট, সেতু ও সড়কের ওপর ইটের সলিংয়ের কাজ ২০১৯ সালের প্রথম দিকে শেষ করে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটির দাপ্তরিক নাম নূরপুর জিসি-কালীবাড়ি আরএন্ডএইচ সড়ক হলেও স্থানীয়ভাবে এটি সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক নামেই পরিচিত। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক গণপূর্ত ও গৃহায়নমন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সড়কের নির্মাণকাজের ফলক উদ্বোধন করেন। এরপরই থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রীসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের অতি উৎসাহে এটি ‘শেখ হাসিনা সড়ক’ নামে পরিচিতি পায়। তবে সরকারের পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ এটিকে ‘সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক’ বলে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পের শুরুতে ৩ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতা আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসির কারণে ২০১৯ সালের সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০২২ সালে তড়িঘড়ি করে সড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও এর বড় একটি অংশের নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। সেই অংশে বৃষ্টি হলেই সড়ক হয়ে পড়ে কর্দমাক্ত। সড়ক দিয়ে চলতে গেলেই কাদায় ফেঁসে যায় গাড়ির চাকা। তাছাড়া এ পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ গত দুই-আড়াই বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষ্মীমুড়ার বাসিন্দা সোলমান মিয়া বলেন, ১০ কিলোমিটার রাস্তা বানাতে ১০ বছর লাগলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের শান্তামুড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, সড়কের লক্ষ্মীপুর থেকে নূরপুর পর্যন্ত রাস্তা অনেক সরু ও আঁকাবাঁকা। এই রাস্তাটি প্রশস্তকরণের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। এমনিতেই সড়কটির নির্মাণকাজে অনেক বিলম্ব হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে চলাচলে জেলার সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলার প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বের পাশাপাশি সময়ও কমে আসবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী ইব্রাহীম খলীল বলেন, সড়কটির নির্মাণকাজ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে সড়কের একটি সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেতুর কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রকল্পে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত