আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মারিও কেম্পেস ইএসপিএন-এর বিশেষজ্ঞ ধারাভাষ্যকার হিসেবে আজ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন। গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন ফাইনালের বিভিন্ন দিক নিয়ে
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লাউতারো মার্তিনেসের গোলটি কি এমন একটি গোল যা বিশ্বকাপ, ক্যারিয়ার এবং জীবন বদলে দেয়?
মারিও কেম্পেস: এমন একটি গোল যা কেউ কখনো ভুলবে না—না লাউতারো নিজে, কারণ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গোল করার সুযোগ প্রায়ই আসে না; আর না আমাদের আর্জেন্টিনার মানুষ, যারা এই অবিশ্বাস্য আনন্দ উপভোগ করে চলেছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটা শহরে আলবিসেলেস্তেদের জার্সি দেখা যাচ্ছে; মনে হচ্ছে যেন নিজের দেশেই আছি, আর খেলোয়াড়রাও সেই ভালোবাসা অনুভব করতে পারছে।
লাউতরো এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরও কয়েকটি সেমিফাইনালে গোল করেছেন, তবে এই বিশ্বকাপের গোলটি কি তাঁকে অন্য স্তরে নিয়ে গেল?
মারিও কেম্পেস: বিশ্বকাপের মতো আর কিছুই নেই; অন্য কোনো কিছু এত আবেগ আর পরিচিতি দিতে পারে না। তবে লাউতারো আগে যা করেছে—তাঁর জীবনের ক্লাব ইন্টার মিলানের হয়ে এবং জাতীয় দলের হয়ে—সেটার জন্যই সে ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারদের একজন ছিল। আমাদের মনে রাখা উচিত সে আগেই একটি কোপা আমেরিকার ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল এবং মিলানে একজন বিদেশি খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই গোলটি কেবল তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি প্রমাণ।
সবচেয়ে বড় এই ফাইনাল ম্যাচেও কি আমরা তাঁকে আবার বেঞ্চে দেখতে পারি?
মারিও কেম্পেস: আমি জানি না; বর্তমান ফর্মেশন অনুযায়ী মেসির সাথে অন্য একজন স্ট্রাইকার খেলে—হয় হুলিয়ান আলভারেজ, না হয় লাউতারো মার্তিনেস। তবে বর্তমান ফুটবল যেভাবে চলছে, তাতে বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমেও ফল নির্ধারণ করে দেওয়া সম্ভব। সেমিফাইনালে লাউতির দক্ষতা ছিল সঠিক, এমনকি নিখুঁত মানসিকতা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করা।
সেন্টার-ফরোয়ার্ডদের নিয়ে চলমান বিতর্কে আপনি কার পক্ষে? দলের জন্য কে বেশি দরকারী, লাউতারো নাকি হুলিয়ান?
মারিও কেম্পেস: আমি ওভাবে ভাবি না, আর সবচেয়ে বড় কথা আমি এটাকে কোনো সমস্যা হিসেবেই দেখি না। কারণ তারা এমন দুজন স্ট্রাইকার যারা সিলেকসিওন (জাতীয় দল) এবং মেসিকে সুবিধা দেয়—মেসি এমন একজন মানুষ যিনি সবার কাজ সহজ করে দেন।"
নিজে একজন সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে আপনি তাদের কীভাবে বর্ণনা করবেন?
মারিও কেম্পেস: লাউতারো মূলত পেনাল্টি বক্সের খেলোয়াড়, গোল করার জন্যই তার জন্ম। হুলিয়ান কিছুটা সুযোগ তৈরি করার মতো খেলোয়াড়, তবে সে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে কীভাবে পরাস্ত করতে হয় তা জানে। দুজনেরই অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে, যা মিশর ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের গোলগুলো থেকেই প্রমাণিত। তারা এখনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, এবং আমি আশা করি তারা... টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হবে। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সৌভাগ্য স্কালোনির আছে, তবে আমি বুঝতে পারছি এই ম্যাচটি অন্য সব ম্যাচের চেয়ে আলাদা।
মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে আপনি যদি ইন্টারের এই খেলোয়াড়কে দেখতে পেতেন, তবে তাকে কী বলতেন?
মারিও কেম্পেস: তাকে নিজের মতো থাকতে বলতাম, 'এল তোরো' হতে বলতাম। সে সবসময় যা করে এসেছে, তাই করতে বলতাম। খেলোয়াড়রা তখনই মহান হয়ে ওঠে যখন তারা যেকোনো সাধারণ ম্যাচের মতোই বড় ও চূড়ান্ত ম্যাচগুলোকে সামলাতে পারে। লাউতারো অনেকবার দেখিয়েছে যে তার এই ব্যক্তিত্ব রয়েছে।"
আপনি কেমন ফাইনাল আশা করছেন?
মারিও কেম্পেস: আশা করি চমৎকার একটি খেলা হবে, যা সবসময় ঘটে না। দুটি দুর্দান্ত জাতীয় দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে: স্পেনের পথটা কিছুটা সহজ ছিল, আমাদের অনেক ভুগতে হয়েছে, তবে এটি আমাদের আরও শক্ত করেছে। আমি অত্যন্ত সমানে-সমানে একটি লড়াই আশা করছি। কারা বল বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কারা বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ শুধু স্পেন নয়, আর্জেন্টিনাও এটা ভালো করতে পারে। সহজ কথায়, এটা হলো 'পোত্রেরো' (রাস্তার ফুটবল)-র সাথে 'টিকি-টাকা'-র লড়াই। রাস্তা থেকে উঠে আসা অভাবনীয় কৌশল বনাম সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা: এখানে বিরক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।