নীলফামারীর ডোমারে ট্রাকচাপায় মা ও দুই সন্তানসহ চারজন নিহতের আলোচিত ঘটনায় ঘাতক ট্রাকচালক মো. খোকন সাকিদারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘী চারমাথা এলাকায় র্যাব-১৩ নীলফামারী সিপিসি-২ ও র্যাব-১২ বগুড়া সিপিসি-৩ যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে র্যাব-১৩ সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত খোকন সিকিদার বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ী গ্রামের মো ইব্রাহিমের ছেলে।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ১২ জুলাই দুপুরে নিহত প্রতিমা রানী রায় তার তিন সন্তানদের নিয়ে ভাসুর (স্বামীর বড় ভাই) পরিমল রায়ের মিথিলা ভ্যান যোগে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার শিয়ালডাঙ্গী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে মটুকপুর তিনতলা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বগুড়া ট-১১-২৪৭২ রেজিস্ট্রেশন নম্বরযুক্ত দ্রুতগতির একটি ট্রাক পেছন থেকে মিথিলা ভ্যানটিকে ধাক্কা দিলে রাস্তার পাশের খাদে ভ্যানটি উল্টে যায়।
এতে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পরে প্রতিমা রানীর স্বামী প্রদীপ চন্দ্র রায় বাদী হয়ে গত ১৬ জুলাই ডোমার থানায় অজ্ঞাত ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২)।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব-১৩ নীলফামারী ক্যাম্প অভিযান চালিয়ে ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লা হাবিব বলেন, ঘটনার পর থেকে ঘাতক ট্রাক চালক ও হেলপার পলাতক ছিল। শনিবার রাতে র্যাব-১৩ নীলফামারী সিপিসি-২ ও র্যাব-১২ বগুড়া সিপিসি-৩ যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আরও বলেন, রবিবার সকালে আসামিকে ডোমার থানায় হস্তান্তর করা হয়। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
‘কৃষক দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি’