হাজার কোটি বরাদ্দ কৃষক কার্ডে গুরুত্ব পাবে যান্ত্রিকীকরণ

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ এএম

প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের যে বরাদ্দ, এর মধ্যে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষক কার্ডে। এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই ব্যয়ে ১০০টি উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষক কার্ড দেওয়া হবে, যারা প্রতি বছর আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি প্রণোদনা পাবেন। এ ছাড়া কৃষি খাতের বাজেটে এবারে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সহায়তা, গবেষণা, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদান, আধুনিক চাষাবাদের কৌশল কৃষকের কাছে পৌঁছানো, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি, কৃষি পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতের যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এবারের বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৮ হাজার ৮২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ৪ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া কৃষি ভর্তুকি রাখা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরেও ভর্তুকির পরিমাণ একই রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে সারের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। ফলে এই টাকায় ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতের অর্থাৎ কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল এই বরাদ্দ ছিল ৩৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৬১ শতাংশ।

এদিকে কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি বাজেট উপস্থানের আগে এক অনুষ্ঠানে কৃষি খাতের বরাদ্দ মূল বাজাটের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল, যে হিসাবে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে এই বরাদ্দ চাওয়া হয় ৮৮ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতের উন্নয়ন বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এখানে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিকে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়। এর একটি এরই মধ্যে চলমান। কৃষক কার্ডের জন্য এ বছর বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে পুনরায় ভর্তুকি প্রদানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে। এর সঙ্গে কৃষি গবেষণা, উন্নত মানের বীজ উৎপাদন, খাল খনন কর্মসূচি, সারের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ এবং নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি, আধুনিক চাষাবাদের কৌশল কৃষকের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোসহ নানা কাজ করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া আম চাষিদের জন্য হিমাগার, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ কার্যক্রম পরিচালনা, পচনশীল পণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্নয় করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার টন মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক রাখা হয়েছে। সুনীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০৩০ সালের মধ্যে মৎস্য রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণ ক্ষমতা বর্তমান ২৩ লাখ ১৬ হাজার টন হতে বৃদ্ধি করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ লাখ টনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ লাখ ১৯ হাজার টন, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ ২৯ হাজার টনে উন্নীতকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত