জার্মানির আসল পরীক্ষা আইভরি কোস্ট

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ এএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ম্যাচ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু তিন পয়েন্ট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টে দলের মানসিক অবস্থান নির্ধারণ করে দেয়। সেই দিক থেকে জার্মানি তাদের অভিযান শুরু করেছে দুর্দান্তভাবে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয় শুধু একটি বড় ব্যবধানের ফল নয়, এটি ছিল শক্তি, গতি, কৌশল এবং আত্মবিশ্বাসের এক অসাধারণ প্রদর্শনী।

কুরাসাও হয়তো ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি নয়, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো আসরে কোনো দলকে ৭ গোল দেওয়া সহজ কাজ নয়। জার্মানি শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাদের মিডফিল্ড ছিল অত্যন্ত কার্যকর, উইং দিয়ে আক্রমণ ছিল ধারালো এবং ফিনিশিং ছিল প্রায় নিখুঁত। সবচেয়ে ভালো লেগেছে তাদের খেলার ছন্দ। মনে হয়েছে খেলোয়াড়রা একে অপরের চিন্তাভাবনা আগেই বুঝতে পারছে।

বিশেষ করে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। তারা বল দখলে রেখে ধৈর্য ধরে সুযোগ তৈরি করেছে, আবার প্রয়োজনে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকেও গেছে। আধুনিক ফুটবলে এই ভারসাম্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দল বড় জয় পেলেও তাদের খেলায় দুর্বলতা চোখে পড়ে, কিন্তু জার্মানির ক্ষেত্রে তা খুব একটা দেখা যায়নি।

তবে একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে আমি এটাও বলব, কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জয় দেখে অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত হওয়ার কারণ নেই। বড় দলগুলোর জন্য আসল পরীক্ষা শুরু হয় তখনই, যখন প্রতিপক্ষও সংগঠিত এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী হয়। আর সেই পরীক্ষার প্রথম ধাপ হতে যাচ্ছে আইভরি কোস্ট।

আইভরি কোস্ট তাদের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। স্কোরলাইন খুব বড় না হলেও এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। আফ্রিকার দলগুলো এখন আর শুধু শক্তি আর গতির ওপর নির্ভর করে না; তারা কৌশলগতভাবেও অনেক পরিণত। আইভরি কোস্টের খেলোয়াড়দের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, অ্যাথলেটিসিজম এবং ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে দক্ষতা রয়েছে, যা জার্মানির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

আমার মনে হয় আজকের ম্যাচে জার্মানির সবচেয়ে বড় কাজ হবে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে তারা সহজে জায়গা পেয়েছে, কিন্তু আইভরি কোস্ট সেই সুযোগ দেবে না। মাঝমাঠে কঠিন লড়াই হবে এবং জার্মান খেলোয়াড়দের আরও  ধৈর্যশীল হতে হবে। দ্রুত গোল পেলে ম্যাচ সহজ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু যদি প্রথমার্ধে গোল না আসে, তাহলে চাপ বাড়বে।

রক্ষণভাগের দিকেও নজর দিতে হবে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানি একটি গোল হজম করেছে, যা হয়তো ফলাফলের বিচারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু নকআউট পর্বের কথা ভাবলে ছোট ভুলও বড় মূল্য দাবি করতে পারে। আইভরি কোস্টের ফরোয়ার্ডরা সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে সক্ষম।

তবু কাগজ-কলমে জার্মানিই এগিয়ে। তাদের স্কোয়াডের গভীরতা বেশি, বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বেশি এবং বিশ্বকাপের চাপ সামলানোর সামর্থ্যও বেশি। তবে ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই, মাঠের ৯০ মিনিটে অতীতের অর্জন কোনো গোল করে না। সেখানে বর্তমান পারফরম্যান্সই সবকিছু নির্ধারণ করে।

আমি আশা করছি, আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ দেখতে যাচ্ছি। জার্মানি যদি কুরাসাওয়ের বিপক্ষে দেখানো ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তাহলে তারা জয়ের খুব কাছাকাছি থাকবে। কিন্তু আইভরি কোস্ট যদি ম্যাচটিকে শারীরিক লড়াইয়ে পরিণত করতে পারে এবং দ্রুতগতির আক্রমণে জার্মান রক্ষণকে চাপে ফেলতে পারে, তাহলে চমকও দেখা যেতে পারে।

বিশ্বকাপের শুরুটা জার্মানির জন্য স্বপ্নের মতো হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই এই স্বপ্নের যাত্রা কি আইভরি কোস্টের বিপক্ষেও একইভাবে এগিয়ে যাবে, নাকি সেখানে অপেক্ষা করছে বাস্তবতার প্রথম কঠিন পরীক্ষা? আজ রাতের ম্যাচই সেই উত্তর দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত