আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘর

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ এএম

অপার রহস্যে ভরা আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘর। এই বাতিঘর ছিল প্রযুক্তিগতভাবে খুবই উন্নত। এর স্থাপত্যকলা এমন ছিল, তখনকার সময়ে মডেল মেনে অন্য সব বাতিঘর তৈরি হতো। প্রাসাদতুল্য এই বাতিঘরের স্থাপত্যকলার কৌশলের জন্য প্রাচীন সপ্তমাশ্চর্যের তালিকায় ঠাঁই করে নেয়। এটি তৈরি হয়েছিল ফারোস দ্বীপে। দ্বীপটি মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়া বন্দরের কাছে। পানির ওপর দিয়ে নির্মিত এক উঁচু পথের মাধ্যমে দ্বীপটি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এটি মূলত নাবিকদের পথপ্রদর্শন ও নিরাপত্তার জন্য নির্মিত। এটি উৎসর্গ হয়েছিল জিউস সোটার এবং গ্রিক সমুদ্র দেবতা প্রোটিয়াসের নামে। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতকের কাছাকাছি তৎকালীন মিসরের রাজা সোটার বংশের শাসনামল টলেমি রাজবংশের শাসন হিসেবে খ্যাত। তার ক্ষমতা ও মহিমা প্রদর্শনের স্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন এবং আলেক্সান্দ্রিয়াতে চলাচলকারী জাহাজগুলো চলাচলের পথ সঠিকভাবে প্রদর্শন করার জন্য বিশাল বাতিঘর ভবন স্থাপনের অনুমোদন দেন। জানা যায়, বাতিঘরের স্থপতি ছিলেন সস্ট্র্যাটাস অব নিডাস। কিছু তথ্যসূত্র বলছে, সস্ট্র্যাটাস শুধু এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিলেন। সস্ট্র্যাটাস ও টলেমি দুজন মারা যাওয়ার পর একসময় প্লাস্টারটি  ভেঙে গেলে, সস্ট্র্যাটাসের কৃতিত্ব প্রকাশ পায়। বাতিঘরের শীর্ষে একটি ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছিল। ভাস্কর্যটি সম্ভবত সূর্যদেবতা হিলিওসের রূপে ১ম টলেমি সোটার বা আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেটকে চিত্রিত করেছিল। দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বাতিঘরটি সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। উপকূলের চুনাপাথর খনি থেকে প্রাপ্ত চুনাপাথর দ্বারা, বাতিঘরটি  তৈরি হয়েছিল। এর চূড়ায় আগুন বাতি জ¦ালিয়ে রাখা হতো। এ আগুন দিন-রাত সবসময় সতর্কতা ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে জ্বালিয়ে রাখা হতো। দিনের বেলায় আগুন থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ও রাতের বেলায় আগুনের উজ্জ্বলতার মাধ্যমে নাবিকরা বুঝতে পারতে, বাতিঘরটা কোন দিকে অবস্থিত। বাতিঘরটি ঐতিহাসিক নথি থেকে মুছে যায় আনুমানিক চতুর্দশ শতকের পরের দিকে।  সম্ভবত ১৩৩০ সালের এক ভূমিকম্পে পানিতে ধসে পড়ার পর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত