সাকার হ্যাটট্রিকে ১০ গোলের থ্রিলার জিতলো ইংল্যান্ড

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

বিশ্বকাপ জেতার মতোই তারা খেলল, তবে যখন বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়ে গেছে ঠিক তখন! মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বিশ্বফুটবল দেখল এক অবিস্মরণীয় গোলবন্যা। ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল নিজেদের করে নিয়েছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর এটাই বিশ্বকাপে থ্রি লায়ন্সদের সেরা সাফল্য হলেও, এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের পর ইংলিশ সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেন এই আক্রমণাত্মক ইংল্যান্ডকে দেখা যায়নি?

ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট ইংল্যান্ড খেলেছে বিশ্বজয়ীদের মতো। হ্যারি কেনকে বিশ্রামে রেখে মাঠে নামা দলটি প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যায়। ম্যাচের শুরুতেই ডেসিয়ারে দুয়ের পাস ইন্টারসেপ্ট করে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে প্রথম গোল করেন ডেক্লান রাইস। এরপর রাইসের কর্নার থেকেই হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কোনসা—যিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন।

এরপর শুরু হয় বুকায়ো সাকার ম্যাজিক। মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের অ্যাসিস্ট থেকে দলের তৃতীয় এবং এবেরেচি এজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেন সাকা।

তবে বিরতির পর ৪টি পরিবর্তন এনে দৃশ্যপট বদলে দেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের ডেসচ্যাম্পস। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার গোলে স্কোরলাইন ৪-৩ করে ম্যাচের উত্তেজনা তুঙ্গে তোলে ফ্রান্স। এরপর জেড স্পেন্স ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা (৫-৩)। জিওফ হার্স্ট, গ্যারি লিনেকার এবং হ্যারি কেনের পর চতুর্থ ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন এই আর্সেনাল তারকা।

খেলা এখানেই শেষ হয়নি। ওসমানে ডেম্বেলে ইনজুরি টাইমে গোল করে ব্যবধান ৫-৪ করলে নাটকীয়তার চরম সীমা ছড়ায়। তবে শেষ মুহূর্তে (ইনজুরি টাইমের ৭ম মিনিটে) বদলি হিসেবে নামা জুড বেলিংহামের একক প্রচেষ্টার এক জাদুকরি গোল ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কোনো দলের ৬ গোল দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

১০ গোলের ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ হিসেবে নাম লিখিয়েছে। এর আগে ১৯৫৪ সালে অস্ট্রিয়ার কাছে সুইজারল্যান্ডের ৭-৫ গোলে (১২ গোল) হেরে যাওয়া ম্যাচটি এখনও শীর্ষে রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচে এটিই এখন সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ। এর আগে ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ৬-৩ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। এবার যেন তারই উল্টো এক চিত্রনাট্য দেখল ফুটবল বিশ্ব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত