ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি ফাইনালের নিজস্ব স্বকীয়তায় অনন্য। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু করে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতিটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দেখা গেছে কৌশল, লড়াই এবং অভাবনীয় সব মুহূর্ত। এক নজরে দেখে নিন বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় প্রতিটি দশকের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের পরিসংখ্যান ও ঘটনাপ্রবাহ।
১৯৩০
প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে উরুগুয়ে ৪–২ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। পেদ্রো সেয়া, ভিক্টরিয়ানো ইরিয়ার্তে, হেক্টর কাস্ত্রোর গোলে স্বাগতিকরা ইতিহাস গড়ে শিরোপা জিতে।
১৯৩৪
রোমের উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে ইতালি অতিরিক্ত সময়ে ২–১ গোলে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারায়। রাইমুন্ডো ওরসি, আনজেলো স্কিয়াভিওর গোলে স্বাগতিকদের প্রথম বিশ্বজয় নিশ্চিত হয়।
১৯৩৮
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে ইতালি। জিনো কোলাউসি ও সিলভিও পিওলার জোড়া গোলে হাঙ্গেরিকে ৪–২ গোলে হারিয়ে রাজত্ব আরও প্রতিষ্ঠিত গ্লি আজ্জুরিদের।
১৯৫০
মারাকানার ঐতিহাসিক ফাইনালে উরুগুয়ে ২–১ গোলে ব্রাজিলকে হারায়। হুয়ান স্কিয়াফিনো, আলসিদেস ঘিজিয়ার গোলে ফুটবল ইতিহাসে অমর বিস্ময়ের জন্ম হয় সেদিন।
১৯৫৪
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও পশ্চিম জার্মানি ৩–২ গোলে হারায় হাঙ্গেরিকে। ম্যাক্স মোরলক ও হেলমুট রাহনের জোড়া গোলে জন্ম নেয় কিংবদন্তি 'মিরাকল অব বার্ন'-এর চিরস্মরণীয় গল্প।
১৯৫৮
কৈশোরেই জ্বলে ওঠেন পেলে, ব্রাজিল ৫–২ গোলে হারায় সুইডেনকে। এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো দুটি, এদভালদো ইজিদিও নেতো দুটি ও মারিও জাগালোর গোলে শুরু হয় দলটির সোনালি যুগ।
১৯৬২
আঘাতের বাধা পেরিয়ে ৩–১ গোলে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারায় ব্রাজিল। আমারিলদো, জিতো, ভাভার গোলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে অমর গৌরব অর্জন করে তারা।
১৯৬৬
ওয়েম্বলির ফাইনালে ইংল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে পশ্চিম জার্মানিকে ৪–২ গোলে হারায়। জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিক, মার্টিন পিটার্সের গোলে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপ জযয়ের স্বাদ পায় ইংলিশরা।
১৯৭০
ফুটবল সৌন্দর্যের অনন্য প্রদর্শনীতে ব্রাজিল ৪–১ গোলে ইতালিকে হারায়। পেলে, জাইর্জিনহো, গেরসন, কার্লোস আলবার্তো তোরেসের গোলে প্রথম দল হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ জেতে তারা।
১৯৭৪
শুরুতে পিছিয়ে থেকেও ২–১ গোলে নেদারল্যান্ডসকে হারায় পশ্চিম জার্মানি। পল ব্রাইটনার, গের্ড মুলারের গোলে স্বাগতিকরা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের করে নেয়।
১৯৭৮
স্বাগতিক আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩–১ গোলে হারায়। মারিও কেম্পেসের জোড়া গোল, ড্যানিয়েল বের্তোনির আঘাতে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে আলবিসেলেস্তেরা।
১৯৮২
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইতালি ৩–১ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারায়। পাওলো রোসি, মার্কো তারদেল্লি, আলেসান্দ্রো আল্তোবেল্লির গোলে বিশ্বসেরার আসনে আবার ফিরেছিল দলটি।
১৯৮৬
ম্যারাডোনার অনুপ্রেরণায় আর্জেন্টিনা ৩–২ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারায়। ব্রাউন, ভালদানো, বুরুচাগার গোলে বিশ্বজয়ের স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করে প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে তারা।
১৯৯০
রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে এবার আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারায় পশ্চিম জার্মানি। আন্দ্রেয়াস ব্রেমের একমাত্র পেনাল্টি গোলে ম্যারাডোনার চোখে সেদিন ঝরে পড়ে অপূর্ণতার নীরব অশ্রু।
১৯৯৪
গোলশূন্য উত্তেজনার পর টাইব্রেকারে ব্রাজিল ৩–২ ব্যবধানে হারায় ইতালিকে। নাটকীয় সমাপ্তিতে ব্রাজিল জেতে চতুর্থ শিরোপা, রোবের্তো বাজ্জিওর আকাশে মারা মিসটি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৯৮
স্বাগতিক ফ্রান্স ৩–০ গোলে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিলকে। জিনেদিন জিদানের জোড়া হেড ও এমানুয়েল পেতির শেষ আঘাতে প্যারিসে জন্ম নেয় নতুন এক যুগের ফুটবল সম্রাটের গল্প।
২০০২
এশিয়ার মাটিতে ব্রাজিল ২–০ গোলে হারায় জার্মানিকে। রোনালদো নাজারিও দে লিমার জোড়া গোলে নিশ্চিত হয় পঞ্চম বিশ্বকাপ, সেদিন নিজের অসাধারণ পুনর্জন্মের মহাকাব্য লেখেন এই কিংবদন্তি।
২০০৬
জিনেদিন জিদানের পেনাল্টি ও মার্কো মাতেরাজ্জির জবাবে ম্যাচ শেষ হয় ১–১ ড্রয়ে। এরপর টাইব্রেকারে ইতালি ৫–৩ ব্যবধানে জেতে। বার্লিন স্মরণ রাখে নাটক, গৌরব আর অশ্রুর গল্পগাথা।
২০১০
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানে স্পেন অতিরিক্ত সময়ে ১–০ গোলে হারিয়ে দেয় নেদারল্যান্ডসকে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার একমাত্র স্বর্ণগোলে বিশ্বফুটবলে স্পেনের স্বপ্নপূরণের অনন্য এক অধ্যায় রচিত হয়।
২০১৪
মারাকানায় অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় ফাইনালে জার্মানি ১–০ গোলে হারিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে। মারিও গ্যোটসের একমাত্র গোলে জার্মানরা পায় চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা, মেসির অপেক্ষা আরও বাড়ে।
২০১৮
রাশিয়ার জমজমাট ফাইনালে ফ্রান্স ৪–২ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়াকে। আন্তোয়ান গ্রিজমান, পল পগবা, কিলিয়ান ও মারিও মানজুকিচের আত্মঘাতী গোলে শিরোপার স্বাদ পায় ফরাসিরা।
২০২২
কাতারের মহারণে ৩–৩ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা হারায় ফ্রান্সকে। লিওনেল মেসির জোড়া গোল, আনহেল দি মারিয়ার একটি; কিলিয়ান এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকও থামাতে পারেনি সেই স্বপ্নযাত্রা।