কলসরূপী মাংসখেকো গাছ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ এএম

বোর্নিও একক কোনো দেশ নয়। এটি তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, যা তিনটি দেশে বিভক্ত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনেই। বোর্নিওর জঙ্গলে পাখির আনাগোনা। সময় বুঝে খাদ্য সন্ধানে যায় বিভিন্ন প্রজাতির পতঙ্গ। এর মধ্যে মুরব্বি পোকা ‘এমিলি’। সে একটি ঝোপের ধারে এলো। কিছুক্ষণ আগে সৌরভের উৎস যে এই গাছ, তা নিশ্চিত। এরপর গাছের কলসির মতো দেখতে একটি পাতার ওপর বসল। পাতার ভেতর খোপের মতো থলি। সে দেখল, যে পথ দিয়ে পাতার ভেতর প্রবেশ করেছে, কিছুক্ষণ পর তা দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু খোপের ভেতরে আঠালো রসে আবদ্ধ। এরপর কলসির মুখ বন্ধ হয়ে গ্রাস করল এমিলিকে। মারা গেল সে। আবার জেগে উঠল গাছ। ততক্ষণে খাবার  তৈরির সংবাদ দেহে পৌঁছেছে। কলসির মতো দেখতে মাংসাশী শিকারি গাছগুলো ‘পিচার প্ল্যান্ট’। সন্ধ্যার ঠিক আগে আগে এই গাছের ফুল থেকে রস নির্গত হতে থাকে, যা সকালের আগে শুকিয়ে যায়। বিভিন্ন পোকামাকড় তাদের ফুলগুলোতে আকৃষ্ট হয়। পিচারের অভ্যন্তরে আঠার ফাঁদ। এর ভেতরের অংশ পিচ্ছিল থাকায় পতঙ্গগুলো হাজার চেষ্টা করেও আর বের হতে পারে না। এরপর শিকার হত্যায় তারা অ্যাসিড ক্ষরণ করে। তারপর পাচক রস এবং অ্যাসিডের তীব্র বিক্রিয়ায় দ্রুত যেকোনো পতঙ্গ খাদ্যে রূপান্তরিত হয়। এভাবেই তারা খাদ্য সংগ্রহ করে। কয়েক দশক ধরে, পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে ধ্বংসের মুখে জীববৈচিত্র্য। তবে ইন্দোনেশিয়ার বন বিভাগ ইতিমধ্যে পিচার প্লান্ট সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত