ক্যারিয়ারের মধ্য গগনে মিম

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ এএম

২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল। দেখতে দেখতেই ক্যারিয়ারের যুগ পার করছেন লাক্সকন্যা বিদ্যা সিনহা মিম। মাঝখানে কত ঘটনা। চলচ্চিত্র থেকে নাটক, আবার বড় পর্দায় থিতু হওয়া। বিয়ে, সংসার আর সময়-সুযোগ পেলেই অবকাশ যাপনে বিদেশ ভ্রমণ। এর মধ্যেই চেনা ছন্দ জিইয়ে রাখা। সবকিছু মিলিয়ে আগের মতোই সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়াচ্ছেন এই গ্ল্যামার গার্ল। পাশাপাশি হাতেও রয়েছে একগুচ্ছ কাজের পসরা। লিখেছেন জাহাঙ্গীর বিপ্লব

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম যে চলতি বছরটি নিজের দখলে রাখবেন, সেই আভাস পাওয়া গিয়েছিল গত বছরের শেষের দিকেই। এই মডেল-অভিনেত্রী নিজেই সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই পূর্বাভাসই রূপ নিল ২০২৬ সালে এসে। দুই বছর পর সিনেমায় ফেরা, নিত্য নতুন ফটোশুট, ওয়েব ফিল্ম, মডেলিং সব মিলিয়ে যেন ক্যারিয়ারের দুরন্ত, দুর্বার সুসময় কাটছে তার। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। ‘মালিক’ ও ‘লাইফলাইন’ সিনেমার মাধ্যমে লাইমলাইটে আসা মিম কেবল কাজ করেই ক্ষান্ত কিংবা ক্লান্ত হচ্ছেন না, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব এই তরুণী। সদ্য ক্যামেরাবন্দি করা ছবিগুলো শেয়ার করার সঙ্গে জানাচ্ছেন নতুন কাজের খবরও। এইতো কয়েকদিন আগেই গাজীপুরের একটি স্বনামধন্য রিসোর্টের বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে কাজ করার ছবি এবং তার লিংকও ভাগ করেছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। মিম বলেন, ‘রিসোর্টটিতে গিয়ে আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে পরিবেশটা এত চমৎকার যে মন ভরে যায়।’

নেটিজেনরাও এই তারকার প্রতিদিনের আপডেট দেখে বেশ সানন্দে সাবলীল মন্তব্য করছেন। কেউ বলছেন, ‘এই মিম আগের চেয়ে অভিনয়ে অনেক বেশি ম্যাচিউরড। আর একজন শিল্পী যখন অভিনয়ে ম্যাচিউরড হন তখন তাকে দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করাতে হয়, তার মেধাকে কাজে লাগাতে হয়।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘মিম তার জীবনের সেই সময়টাই পার করছেন একজন অভিনেত্রী হিসেবে, যখন তিনি ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। সেসব চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি অনেক কষ্ট করতে, শ্রম দিতেও প্রস্তুত।’

দর্শকের এমন প্রতিক্রিয়া দেখে আবেগাপ্লুত মিম বলেন, প্রতিনিয়তই সিনেমাতে, ওয়েব ফিল্মে, ওয়েব সিরিজে কাজ করার প্রস্তাব আসছে। আমি কেবল আমার মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই গল্পে অভিনয় করেত চাই, যা দর্শকের কাছে ভীষণ ভালো লাগার হয়ে উঠবে, যেমনটা হয়ে উঠেছিল পরাণ, যেমনটা হয়ে উঠেছে মালিক, লাইফলাইন।

মিম জানালেন, ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে গল্পনির্ভর কাজকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, শুধু গ্ল্যামার নয়, অভিনয়ই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। সময়ের সঙ্গে নিজেকে আরও পরিণত করে তুলেছেন। বড়পর্দা, ওটিটি কিংবা বিজ্ঞাপন সব মাধ্যমেই তার উপস্থিতি এখন সমানভাবে দর্শকের নজর কাড়ে। তাই নতুন কোনো কাজ নিয়ে হাজির হলেই তা ঘিরে তৈরি হয় আলাদা আগ্রহ।

ক্যারিয়ারের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এতদূর এসে এই নায়িকার উপলব্ধি এ লম্বা সময়ে অনেক সময় মনে হয় অনেক অপূর্ণতা আছে। পরে মনে হয় আসলে এক জীবনে সব পেয়ে যাব তা নয়, কিছু অপূর্ণতা যেমন থাকবে, অনেক প্রাপ্তিও আছে বলে জানান তিনি। মিমের ভাষ্য, ‘এই দেড় যুগে অনেক গোছানো থেকেছি। আমি নিজেও অনেক শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে পছন্দ করি।’

ব্যক্তিগত জীবনে বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সনি পোদ্দারের ঘরণী মিম। সংসার জীবনেও বেশ খুশি বিদ্যা সিনহা মিম। এক বান্ধবীর মাধ্যমে পরিচয়, তারপর প্রণয় এবং সবশেষে সফল পরিণয়। বিয়ের পর থেকে দারুণ সময় উপভোগ করছেন উল্লেখ করে মিম বলেন, ‘সনি আমার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তার মতো ভালো ও সুন্দর মতো মানুষ পাওয়া অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। হাসি, আনন্দ, খুনসুটি এভাবেই কেটে গেল বিয়ের ৬ বছর। সবাই আশীর্বাদ করবেন বাকিটা জীবন যেন এভাবেই হই-হুল্লোড়ে কাটিয়ে দিতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত