আলোচনার টেবিলে ককরোচ চলবে আন্দোলনও

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৯ এএম

ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে অবস্থান জানাতে সরকার আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। গতকাল শুক্রবার সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা একথা জানান।

আন্দোলনের অন্যতম মুখ সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভাঙার কয়েক ঘণ্টা পরই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা নিরসনের আশা দেখা দিয়েছে।

তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রের অপসারণে মত নেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের। সেই আবহে আজ শনিবার আবার কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে সিজেপি।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কয়েকদিন ধরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সরকারবিরোধী এ আন্দোলনকে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে যুবসমাজের ছুড়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তরুণসমাজের আন্দোলনের প্রতি কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোও সমর্থন জানিয়েছে। এ আন্দোলনকে ঘিরে চলতি সপ্তাহে ভারতের সংসদে শুরু হওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশন বারবার মুলতবি হচ্ছে।

গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। আর গতকালের বৈঠকটি ছিল সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রথম বিস্তারিত আলোচনার বৈঠক। সরকারের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। আর আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।

গতকালের বৈঠকে সিজেপি স্পষ্ট জানায়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রকে ইস্তফা দিতে হবেই। একই সঙ্গে আরও দুটি দাবি কেন্দ্রের কাছে রেখেছে তারা। এক. নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ। দুই. আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা এবং এফআইআর খারিজ।

প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনার পর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে বেরিয়ে সৌরভরা দাবি করেন, আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র। শনিবার তাদের সঙ্গে কেন্দ্রের আরও একটি বৈঠক হতে পারে। তবে তারা এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ধর্মেন্দ্র ইস্তফা না দিলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। আমরা তাদের বলেছি, আগামীকাল বিকেলে আবার বসব এবং দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করব।’

তবে গতকালের বৈঠকের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, সিজেপির প্রস্তাব মানবে কি কেন্দ্র? ইস্তফা দেবেন ধর্মেন্দ্র? শীর্ষ সরকারি সূত্রকে উল্লেখ করে ‘এনডিটিভি’ জানিয়েছে, মোদি সরকারও নিজেদের অবস্থানে অনড়। শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওই সূত্রের দাবি, সরকার মনে করে ‘পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত’। ওই সূত্রের মতে, সাধারণ মানুষের ‘রায়ে’ দিল্লির কুর্সিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সেই কারণে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে বদ্ধপরিকর তারা।

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সংস্কার নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। ‘ককরোচ’দের অন্যতম দাবি ছিল, এনটিএ সংস্কার। ওই সংস্থায় কী কী সমস্যা হচ্ছে, নির্ধারণ করে অবিলম্বে তা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

অনশন ভেঙে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান সোনম ওয়াংচুকের : সিজেপির দাবিতে সমর্থন দিয়ে অনশনে যাওয়া লাদাখের অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে অনশন ভাঙেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ লাদাখ অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অবশেষে আমি অনশন ভেঙেছি। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে এসে কিংবা চিঠির মাধ্যমে আমাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান। মূলত বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত।’

শর্তগুলোর বিস্তারিত শিগগিরই একটি আলাদা ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ করার কথা সোনমের। সেই সঙ্গে কোথাও যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ছড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এই অধিকারকর্মী।

ওয়াংচুক বলেন, হাসপাতালে আসা দুই মন্ত্রী তাকে দুটি বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রথমত, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, সরকার তাদের পরিবারকে ‘উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করাসহ সামগ্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদে একটি ‘অর্থপূর্ণ আলোচনা’র আয়োজন করা হবে।

মোদির বার্তা : বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এক ভিডিওবার্তায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।’ তিনি জানান, এই কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আড়াই মাসে সরকারের তরফে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের যাতে এক বছর নষ্ট না হয় তাই দ্বিতীয় বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত