স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে : জামায়াত

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ এএম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও  জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, সাহাবুদ্দিন কী কারণে পদত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে আমাদের আগ্রহ নেই। কারণ আমরা আগে থেকেই বিবেচনায় নিয়েছি যে, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার আর যোগ্য নন, তিনি তার যোগ্যতা হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ-পরবর্তী এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন সেফ এক্সিটের (নিরাপদে প্রস্থান) জন্য অসুস্থতার বয়ান দিয়েছেন। তাকে সেফ এক্সিট দেওয়ার মানে নেই। অন্যদিকে সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুর রহমান বলেন, অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান মাননীয় স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করছি তিনি যতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, ন্যায়নিষ্ঠ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করবেন; কারো প্রতি তিনি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করবেন না। তিনি যতদিন নিরপেক্ষভাবে ও রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করছি ততদিন আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব।

তিনি বলেন, আমরা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করি। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু সংসদ অধিবেশন রয়েছে, কাজেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা কী হবে তা দেখতে পাবেন, ইনশাআল্লাহ। জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এটি সবার প্রত্যাশা। যথাসময়ে মাননীয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করবেন। এখানে কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। আমরা চাই কোনো সংকট তৈরি না হোক।

তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির পদে একজন মর্যাদাবান ব্যক্তিকে দেখতে চাই; কোনো তোষামোদকারীকে নয়। আমরা যে সংস্কারের কথা বলছি, তার অন্যতম লক্ষ্য হলো তোষামোদের সংস্কৃতির অবসান ঘটানো।

‘সেফ এক্সিট’ না দেওয়ার দাবি এনসিপির : রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন সেফ এক্সিটের (নিরাপদে প্রস্থান) জন্য অসুস্থতার বয়ান দিয়েছেন। কিন্তু তাকে সেফ এক্সিট দেওয়ার মানে নেই।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় দলটি। সে সময় দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সংসদে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করতে হবে। কিন্তু তা করা হয়নি। আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তিনি (সাহাবুদ্দিন) পদত্যাগপত্রে যে ন্যারেটিভ (বয়ান) টেনেছেন, সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক। অসুস্থতার অজুহাতের কথা বললেও তার পদত্যাগপত্রের মধ্যে এমনভাবে তিনি ন্যারেটিভ সাজিয়েছেন, যেটা আসলে তার জন্য একটা সেফ এক্সিটের (নিরাপদ প্রস্থান) জায়গা তৈরি করতে পারে।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সেফ এক্সিট দেওয়ার কোনো মানে নেই। তিনি যত অপরাধ করেছেন, সেই অপরাধগুলোতে তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

গ্রেপ্তার চায় খেলাফত মজলিস : রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি (সাহাবুদ্দিন) রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ধারাবাহিকভাবে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল।’

তারা বলেন, ‘সেই সময় বিএনপিদলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি; বরং তাকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আজ বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের পর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এতে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এ পদত্যাগের পেছনে কেবল নীতিগত কারণ কাজ করেছে, নাকি এর সঙ্গে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও জড়িত।’

মামুনুল হক ও জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে সাহাবুদ্দিন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। একদিকে তিনি পদত্যাগপত্র না পাওয়ার কথা বলেছেন, অন্যদিকে পরে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে এমন স্ববিরোধী বক্তব্য তার নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণœ করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত