বাংলাদেশসহ ৮৬টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে। জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ শুল্ক আরোপ করে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ফেডারেল রেজিস্টারের এক নোটিসে বৃহস্পতিবার বলা হয়, তালিকায় থাকা দেশগুলোর ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক প্রয়োগ করা হবে।
বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকার অন্য দেশগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, জর্ডান, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো।
২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
চীন, ভিয়েতনাম ও ইসরায়েলসহ ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারের ঘোষণা অনুযায়ী, ইতিপূর্বে ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করা ১০ শতাংশ বৈশ্বিক সাময়িক শুল্কের মেয়াদ ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে। ঠিক তখন থেকেই নতুন আরোপিত শুল্কহার কার্যকর হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ পর্যন্ত নতুন শুল্কহার থেকে অব্যাহতি পাবে।
নতুন শুল্কহারের বিষয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশ থেকে উদ্ভূত সমস্ত আমদানির ওপর শুল্ক হবে ১০ শতাংশ। এটি বিদ্যমান ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ (এমএফএন) শুল্কহারের অতিরিক্ত হিসেবে প্রয়োগ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, যে ১৭টি দেশকে নিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক স্তরের অধীনে রাখা হয়েছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। ফলে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ও রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখবে। যেখানে বাংলাদেশকে ১০ শতাংশ শুল্কের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, সেখানে বিশে^র বেশ কয়েকটি প্রধান পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিযোগী বিশেষ করে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কহারের সম্মুখীন হতে হবে। এই সুস্পষ্ট পার্থক্যের কারণে উচ্চ শুল্কযুক্ত প্রতিযোগীদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের চলমান তুলনামূলক সুবিধাকে আরও শক্তিশালী করে।
মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল ব্যবহার করে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় তৈরি পণ্যের ওপর একটি তিন বছর মেয়াদি শুল্কহার কোটা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব ইউএসটিআর বিবেচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, তা বাংলাদেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিকে উৎসাহিত করবে।
মন্ত্রণালয় বলছে, সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম মান সমুন্নত রাখতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলোর বলিষ্ঠ প্রবৃদ্ধি, সম্মতি এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের স্থানীয় সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, ভোক্তার বাজার হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র প্রধানত স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় থেকে শুল্ক আরোপ করছে। এরমধ্যেও শ্রমমান নিয়ে দেশটি যেহেতু প্রশ্ন তুলছে, এ বিষয়টির মান উন্নয়নে জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভেতরকার প্রস্তুতি জোরালো হলে আন্তর্জাতিক বাজারের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে না।