নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়েছে ইরান

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষত ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও সংস্কার এনেছে ইরান। দেশটির অভিজাত ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। গতকাল রবিবার ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক তথ্যচিত্রে আইআরজিসির ওই কর্মকর্তা জানান, আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত আকাশ প্রতিরক্ষা মডেল থেকে সরে এসেছে তেহরান।

আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা রাডারের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়; দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, তা বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্যে নতুন কাঠামোয় এই বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নতুন এই সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় ইরানের কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং কৌশলগত প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে কৌশল, সামরিক সরঞ্জাম এবং কারিগরি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং তা আদান-প্রদানের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার দাবি, এ ধরনের পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের ফলেই সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর ও সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমানে সংঘাতের সময় ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। উন্নত যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য আকাশ পথের অস্ত্র মোকাবিলায় শুধু স্থির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় এমন বাস্তবতা বিভিন্ন সংঘাতে সামনে এসেছে। ইরানের ক্ষেত্রেও যুদ্ধের সময় নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ইরান দীর্ঘদিন নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে আসছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বিভিন্ন ধরনের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি ও মোতায়েন করেছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও দুর্বলতা দুই দিকই সামনে এনেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যৎ সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ইরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিকেন্দ্রীভূত, নমনীয় ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করার চেষ্টা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত