দীর্ঘ সাত বছর পর জামালপুরের বহুল আলোচিত সাবেক সেনা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল বারিক হত্যা মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। রায়ে রেলওয়ে থানার ওসিসহ চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর জেলা জজ আদালতে এ আদেশ দেন বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবু তাহের।
এ সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড বা অনাদায়ে আরো তিন মাসের জেলের আদেশও দেওয়া হয়।
মামলা বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ জুলাই সকালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বঙ্গবন্ধু সেতু পর্বগামী ৩৭ নম্বর মেইল ট্রেন হতে বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া জামালপুর পৌর শহরের হাটচন্দ্রা এলাকার মো. মাজহারুল হক বাবুকে আটক করে টিসি কক্ষে রাখা হয়। এ সময় আটক বাবু তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল বারিককে (৬০) ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছুটে আসেন এবং ছেলেকে আটক রাখার কারণ জানতে চান। খবর পেয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানার সাবেক ওসি গৌরচন্দ্র মজুমদার টিসি কক্ষে এসে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল বারিকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তখন রেলওয়ে থানার সাবেক পুলিশ কন্সটেবল তপন বড়ুয়া তাকে ঘুষি মারলে তিনি প্ল্যাটফর্মের ওপর পড়ে যান এবং মাথায় আঘাত পান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন ১২ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিকের বড় ছেলে মিজানুর রহমান মুকুল বাদী হয়ে জামালপুরে রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জামালপুরে রেলওয়ে থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌর চন্দ্র মজুমদার, সাবেক কন্সটেবল তপন বড়ুয়া, জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিসি মো. আনিসুর রহমান এরং রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) সোহরাব আলীকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ শুনানী ও ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও প্রত্যেককেই ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।
এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি সোহরাব আলীর স্ত্রী মাহবুবা আক্তার জানান, তার স্বামী নির্দোষ, তিনি ন্যায় বিচার পাননি। ন্যায় বিচারের আশায় তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন।
উল্লেখ্য, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি মোহাম্মদ নূরল করিম ছোটন আর আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আমান উল্লাহ আকাশ।