ফেনীতে নাশকতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে ঘরবাড়ি থেকে পালিয়ে অন্যত্র গাঢাকা দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
জেলায় গত দুই দিনের ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ১৪৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ফেনী মডেল থানার চারটি মামলায় ৭৯ জনকে, দাগনভূঞা থানায় একটি মামলায় ২৮ জনকে, সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলায় ১৪ জনকে, ছাগলনাইয়া থানায় একটি মামলায় ১১ জনকে এবং ফুলগাজী থানায় একটি মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান,গত রবিবার হরতাল চলাকালে শহরের ইসলামপুর রোডে পুলিশকে উদ্দেশ্যে করে ককটেল ছোড়েন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশ ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন জানান, গত রবিবার হরতালে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. হাসান ইমাম জানান, হরতালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নাশকতার অভিযোগ পুলিশের দায়ের করা মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি সুদ্বীপ রায় জানান, হরতালে গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় এজাহারনামীয় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, জেলার সব থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে আসার পর থেকে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করছেন। আজকে তারা নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। নিরপরাধ নেতাকর্মীদের গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এভাবে হামলা, মামলা বা গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে এ সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না। গ্রেপ্তারকৃত সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার শামসুদ্দীন বলেন, হামলা-মামলা দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন দমানো যাবে না। কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করা হবে।
জেলা পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধে সব ধরনের নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ মাঠে তৎপর রয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে সোমবার রাতে বিএনপির ফেনী পৌর কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আজ থেকে বাংলাদেশের সব থানায় সর্বোচ্চ অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। ইউনিট, ওয়ার্ড, থানা এমনকি তৃণমূলের নেতা থেকে কর্মী পর্যন্ত সবাইকে নিজ ঘরে না থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনি সতর্ক থাকুন এবং দলের ভাই-বোনদের ও সতর্ক করুন।’