ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা

কাল জেনেভায় শান্তিচুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা 

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ এএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামীকাল রবিবার স্বাক্ষর হতে পারে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা আলোচনায় আছে। পশ্চিমা একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামীকাল রবিবার সই হতে পারে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা আলোচনায়

আছে। গতকাল শুক্রবার পশ্চিমা এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছেন। তিনি জানান, স্মারকের লিখিত বার্তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

ওদিকে ইরানও শান্তিচুক্তির শর্ত হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবিতে অনড় রয়েছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান চায় শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এ লড়াইও যাতে বন্ধ হয়।

শান্তি স্মারকের ভাষা শনিবারের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে, যাতে চুক্তিটি রবিবারেই সই করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট ন্পিকার বাকের কালিবাফ।

চুক্তিটি কোথায় সই করা হবে, সেই স্থান নির্ধারণ না করা হলেও সম্ভাব্য স্থান হিসেবে জেনেভার নাম উঠে আসছে। ফলে চুক্তিটি সেখানেই সই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে সেই হামলা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্রই যুদ্ধ নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি দারুণ সমাধানে পৌঁছেছি।’

শুক্রবার ইরানের কর্মকর্তারা এ চুক্তির শর্তগুলো সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। তাতে দেখা গেছে, ইরান এতদিন যা যা দাবি করে এসেছে, তার বেশিরভাগই চুক্তিতে রয়েছে। ওদিকে ট্রাম্প তার শর্তের খুব কমই জিতে নিতে পেরেছেন। চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত থেকে এটাই ট্রাম্পের একমাত্র অর্জন বলে মনে হচ্ছে।

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন, খসড়া চুক্তিতে ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, অবরুদ্ধ তহবিল ছাড় দেওয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার কথা রয়েছে। এ প্রতিটিই শান্তিচুক্তিতে ইরানের অপরিহার্য শর্ত।

তবে এই শর্তগুলো পূরণ হওয়ার বিনিময়ে ইরান কী কী ছাড় দেবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি ওই কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি পরে আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন না করে তা নিশ্চিত করতে একটি চুক্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের ভাষ্য তারা পামাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের চেষ্টা করছে না।

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। যেমন ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং বিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত