ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ধসে নারী শিক্ষার্থীসহ আটজন মারা গেছে। এর মধ্যে সাতজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর এ/৩ ব্লকের খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত রবিবার রাত ও সোমবার ভোরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, দুপুর ২টার দিকে পাহাড়ের একাংশ ধসে প্রতিরক্ষা দেওয়ালের ওপর পড়লে সেটি ভেঙে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি মাদ্রাসা ঘরটি ভেঙে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকসহ চারজন মারা যান। পরে ১০ জনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে আরও চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। বর্তমানে ছয় শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিহতদের মধ্যে ৫ শিক্ষার্থীর পরিচয় জানা গেছে। তারা হলো ক্যাম্প-৫-এর এ-১১ ব্লকের হাশিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), ক্যাম্প-৩-এর এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ-৮ ব্লকের মোহাম্মদ ইলিয়াসের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩) এবং ক্যাম্প-৩-এর শামসু আলমের মেয়ে শাহিদা (বয়স জানা যায়নি)।
কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, যখন ক্লাস চলছিল, তখনই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এই মাদ্রাসাটি রোহিঙ্গারাই পরিচালনা করত। ঘটনার সময় সেখানে ঠিক কত শিশু ক্লাস করছিল, আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তবে এ সংখ্যা ৩০ জনের বেশি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পের সব লার্নিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এক রোহিঙ্গা আলেম ও তার স্ত্রী দ্বারা পরিচালিত খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানাটি খোলা রাখা হয়। এ কারণে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেক শিক্ষার্থীয় মাদ্রাসায় আসে। কিন্তু দুপুরের দিকে অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে মাদ্রাসার ওপর পড়ে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, হতাহতদের উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালসহ আশপাশের কয়েকটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৪টি হাসপাতালে মোট আটজনের মরদেহ রয়েছে। এমন বর্ষণে দুর্ঘটনা এড়াতে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো বন্ধ রাখা দরকার।
১৪-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, পরিচয় নিশ্চিত হওয়াদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, গত রবিবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।