এমভি আবদুল্লাহ

৩১ দিন পর মুক্তি পেলেন ২৩ নাবিক

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম

সোমলিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক মুক্তি পেয়েছে। গতকাল ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে মুক্তি পেয়ে জাহাজটি দুবাইয়ের দিকে যাত্রা করেছে। এর আগে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ডলার দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। 

মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জাহাজ মালিক কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, জাহাজটি মুক্তি পেয়ে এখন দুবাই বন্দরের পথে রয়েছে। দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

ঈদের আগেই মুক্তির বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছিল। কিন্তু ডলার কিভাবে দেওয়া হবে তা চূড়ান্ত করতে না পারায় ঈদের আগে মুক্তি সম্ভব হয়নি। দস্যু ও জাহাজ মালিকের মধ্যে ভালো বোঝাপড়ার ফলাফল ছিলো নাবিকদের কেবিনে থাকতে দেওয়া এবং ঈদের নামাজ আদায় করতে দেওয়া। 

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগর থেকে এমভি আবদুল্লাহর সেকেন্ড অফিসার মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রথম অস্ত্র ঠেকিয়েছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা। সেদিন দুপুর তিনটা ১২ মিনিটে অস্ত্র ঠেকানোর পর জাহাজের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ সিটাডেলে আশ্রয় নেওয়া সব নাবিকদের ব্রিজে আসার নির্দেশনা দেন। সেকেন্ড অফিসার ও ডিউটি ইঞ্জিনিয়ার সিটাডেলে আশ্রয় নেয়নি। 

জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাচ্ছিল। জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের গ্যরাকাদে নোঙ্গর করে। এখনো একই এলাকায় অবস্থান করছে। জাহাজ থেকে নাবিকদের উদ্ধারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রিটিশ রয়েল নেভি এবং ভারতীয় নৌ বাহিনী অভিযান চালানোর অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেও জাহাজ মালিক ও বাংলাদেশ সরকার অভিযানের অনুমোদন দেয়নি। 

রক্তপাতহীন জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতেই মালিক পক্ষের কাছ থেকে অভিযানের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এখনো আন্তর্জাতিক বাহিনী এমভি আবদুল্লাহকে নজরদারিতে রেখেছে। এর আগে একই মালিক গ্রুপের এমভি জাহান মনিকে ২০১০ সালে জিম্মি করেছিল একই গ্রুপের জলদস্যুরা। সেবারও মুক্তিপণ দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। 

সোমালিয়ান জলদস্যুরা ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৮টি জাহাজ জিম্মি করেছিল। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জিম্মি করেছিল ৩৫৮টি জাহাজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত