চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় শাহাদাত হোসেন (৩২) নামে এক চা দোকানীকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিহতের মা ছায়েরা খাতুন (৫৮) বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ ও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপর পুলিশ সাইফুল ইসলাম (৩১)কে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের সত্যপীরের দরগাহ ও সন্দেহভাজন ইসমাইল(২৭) কে চট্টগ্রাম নগরী থেকে র্যাব-৭ এর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তার সাইফুল উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনার কেঁওচিয়া মাদারবাড়ি (ফররুখ চেয়ারম্যান) বাড়ি এলাকার মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে ও অপর গ্রেপ্তার ইসমাইল লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল পদুয়া হোসেন সিকদার পাড়া এলাকার মাওলানা ফয়েজ আহাম্মদের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে পিচ্চি কামাল ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় সে (কামাল) কয়েকমাস কারাগারে আটক থেকে সম্প্রতি জামিনে বের হয়। এরপর শাহাদাত তাকে ধরিয়ে দিয়েছে এমনটা দাবি করে আসামিরা নিহত শাহাদাতকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। গত (২৬ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে শাহাদাত সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ এলাকায় তার টং (চা-পান) দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় আসামিরা তার উপর অতর্কিত হামলা করে মাথায় আঘাত করলে তিনি (শাহাদাত) মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আরও জানা যায়, পরে শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলার কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে শাহাদাত মারা যান।
এদিকে থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মাদক মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, সাইফুলকে এজাহারনামীয় ও ইসমাইলকে তদন্তে পাওয়া সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
