পাঁচ বিভাগে হবে আইসিইউসহ শিশু হাসপাতাল

জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ এএম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করবে সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই হাসপাতালগুলো উদ্বোধন করা হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থা থাকবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হচ্ছে। সেখানে তিনি হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার খুঁটিনাটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, পাঁচটি বৃহৎ শহরে বা শহরসংলগ্ন কোনো উন্মুক্ত স্থানে আধুনিক নকশায়, অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক নির্মাণশৈলীতে এই পাঁচটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। আর এই পাঁচটি হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতিমধ্যে করা হয়েছে।

হাসপাতালের প্রতিটিতে এক হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটিতে পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার জনপ্রশাসনমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এটি নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক হবে। জনবল বরাদ্দ হলে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক কোড নেব এবং ইনশা আল্লাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমরা এই পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করব।

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন্ড ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর জন্য পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় প্রাঙ্গণ রাখা হবে। আমরা আগামী চার মাসের মধ্যে, তবে যদি কোনো কারণে না পারি, কারণ যন্ত্রপাতি বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে, এলসি হবে, তাহলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ইনশা আল্লাহ পাঁচটি হাসপাতাল উদ্বোধন করব।

৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বাকি ৮টি উপজেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এ ছাড়া যেখানে নতুন ভবন প্রয়োজন, সেখানে নতুন ভবন করা হবে। হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম নতুনভাবে করার জন্য আজকে থেকে শুরু করছি। সেই হিসাবে জনবল, যন্ত্রপাতি দেওয়ার জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে মিটিং করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

নতুন আবাসিক ভবন পাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা অমানবিক পরিবেশে জীবনযাপন করে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলায় স্বাস্থ্য খাতে কোনো কাজ হয়নি। আমরা সেই দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা খাত তথা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের সেবক ও ডাক্তারদের আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, একটি বা দুটি ভবন, যেটি প্রয়োজন হবে তা নির্মাণ করা হবে। এ জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রকল্প তৈরি করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে টেন্ডার হবে এবং কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাবেন এবং সেখানে গিয়ে এটি ঘোষণা করবেন। এ সময় মিটফোর্ড হাসপাতালের কয়েকটি ভবনের ভঙ্গুর অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব ভবন যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। বিগত সরকারের লোকজন বিভিন্ন সময়ে এগুলো সাবলেট দিয়েছে। সেই সাবলেটিং আমরা উচ্ছেদ করে সেখানে নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছি। মিটফোর্ড হাসপাতালের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত