মাজার দীঘির কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ এএম

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দীঘির কুমিরটি সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার দুপুরে দীঘির পূর্ব পাড়ের বীনা বেগমের ঘাট থেকে কুমিরটিকে ফাঁদ পেতে ধরে বন বিভাগের একটি দল। এটিকে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায় তারা। গত সোমবার কুমিরটির আক্রমণে ফাতেমা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাতে জননিরাপত্তার স্বার্থে দীঘি থেকে প্রাণীটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন।

তবে এ ঘটনায় মাজার কর্তৃপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, কুমিরটি মাজারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তারা অবিলম্বে দীঘিতে কুমির ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে মাজারে আসা দর্শনার্থীরা দীঘিতে কুমির থাকা না থাকার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিচ্ছে।

গতকাল সকালে বন বিভাগ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মাজারের দীঘিতে আসে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দীঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির দেখা মেলে। পরে খাবারের প্রলোভন দিয়ে দীঘি থেকে কুমিরটি তোলার কার্যক্রম শুরু করে। তারা কুমিরটিকে কূলে এনে রশি দিয়ে মুখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নিয়ে খুলনার কয়রায় নিয়ে যায়।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন জরুরি সভা করে মাজারের কুমিরটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী বন বিভাগ খুলনায় বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। দীঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমিরটিকে ভবিষ্যতে কি করা হবে তা জানানো হবে।

বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্রে আগে থেকেই পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১৫ বছর বয়সী একটি কুমির ছিল। সেটিকে অন্য খাঁচায় সরিয়ে বড় খাঁচাটিতে খানজাহান (রহ.)-এর দীঘি থেকে আনা কুমিরটিকে রাখা হয়েছে।

নির্মল কুমার পাল জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্রে কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রেখে কুমিরটির আচরণ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে। এরপর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, যেহেতু এটি মিঠাপানির কুমির, তাই ভবিষ্যতে এটিকে মিঠাপানির উপযোগী কোনো আবাসস্থলেই রাখা বা অবমুক্ত করা হবে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে গাজীপুর সাফারি পার্ক অথবা খানজাহান আলী দীঘির নির্দিষ্ট নিরাপদ ও বেষ্টনীঘেরা অংশ বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে লবণাক্ত পানির পরিবেশ হওয়ায় কুমিরটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে না বলে নিশ্চিত করেছে বন বিভাগ।

মাজারে আসা দর্শনার্থী দবিরুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, কুমির মাজারের একটি ঐতিহ্য। কুমির না থাকলে ঐহিত্য থাকবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো করে এখানে রাখা উচিত।

অন্য দর্শনার্থীরা বলেন, ‘মাজারে ঘুরতে এসে শুনি দীঘিতে কুমির নাই। তাই গোসল করতে নামলাম। নির্ভয়ে দীঘিতে গোসল করতে পেরে ভালো লাগল।’

খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাজারের দীঘিতে সম্প্রতি একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এজন্য আমরা ব্যথিত। এখানে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। কুমির থেকে সবাইকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া যায় তা নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিলাম। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে আটজন নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন গতকাল রাতে একটি জরুরি সভা করে কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজারের ইতিহাস সাড়ে পাঁচশ বছরের। মাজারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কুমির। আমাদের ভুল ত্রুটি হতে পারে। প্রশাসন আজ যেভাবে কুমিরটি ধরে নিয়ে গেছে তা আমরা চাইনি। প্রশাসন কাজটি ভালো করেনি। ধরে নিয়ে যাওয়া কুমিরটি অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত